কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ব্যক্তি জীবনকে যেমন শ্রেষ্ঠত্ব দান করে গোটা জাতিকেও ঠিক তেমনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথ দেখায়। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। এক কথায় শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি বিশ্ব সভ্যতায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে না । তাই শিক্ষা ও তার প্রচার প্রসার হওয়া সভ্য সমাজের প্রধান কর্তব্য। শিক্ষা একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসাবে গড়ে তোলে। এটি মানুষকে অন্যায়, অবিচার অনাচার ও অমানবিক কর্মকাণ্ড থেকে আলোর পথে ধাবিত করে। তাই শিক্ষা ,সমাজ, পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এই জগৎ সংসারে টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে মান সম্মত ও গুনগত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৪নং নারায়নপুর ইউনিয়নের ধনগোদা নদীর পূর্বতীরে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে শোভিত কালিকাপুর গ্রামে ১৯৬৩ খ্রীঃ কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির সুপ্রাচীন ইতিহাসের তথ্য মতে তৎকালীন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিগণ প্রাথমিক ভাবে ১৯৩৮ খ্রীঃ ইসলাম ধর্ম শিক্ষার লক্ষ্যে একটি মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। দরিদ্র সাধারণের মাঝে শিক্ষার আলোক বর্তিকা প্রজ্জলনের উদ্যোগে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৩ সালে জুনিয়ার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সর্ব প্রথম প্রধান শিক্ষা ছিলেন মোঃ আবিদুর রেজা ( বি.কম),জনাব মোঃ সহিদ উর্যাহ পাটোয়ারী,জনাব মোঃ দেলোয়ার হোসেন, জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান সহ জনাব মোঃ শামছুল হক (ভারপ্রাপ্ত), এবং ১৯৯৩ ইং সালে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নিত হওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক ছিলেন মরহুম জনাব মোঃ গোলাম কিবরিয়া পাটোয়ারী। তিনি জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে বিদ্যালয়টিকে ক্রমাগত সাফল্যের দিকে নিয়ে ১৬/০৯/২০০৬ তাং অবসর গ্রহন করেন। তাঁহার অবসরের পর জনাব আবু নোমন মোঃ আঃ রশিদ (ভারপ্রাপ্ত), জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক, কাজী আনোয়ার হোসেন (বি.এস-সি, বি-এড,এম.এ) ১১/০৮/২০১০ অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠিত মক্তবটি পরে জুনিয়ার মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয় এবং মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা পর্ষদ পরবর্তিতে ১৯৬৩ ইং সালে জুনিয়র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময়ে ১৯৪২ খ্রীঃ মরহুম জনাব গোলাম কাদের প্রধানীয়া ৫০ শতাংশ এবং মরহুম জনাব আমজাদ আলী প্রধানীয়া ২৩ শতাংশ নাল মোট ৭৩ শতাংশ দানকৃত সম্পত্তির উপর প্রথম প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়েছিল এবং সাথে মক্তবটি পরিবর্তিত হয়ে ১২ শতাংশের উপর ১৯৪০ সালে কালিকাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। সকলের সহায়তায় বর্তমানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও অবকাঠামো উন্নয়ন সহ সার্বিক কার্যক্রম সহ সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ বিরাজমান। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জনাব মোঃ মজিবুল্লাহ খান, জনাব মোঃ আবুল হাশেম মজুমদার, জনাব মৌলভী মজিবুল্লাহ খান, জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম, জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান মজুমদার এবং বাবু নির্মল গোস্বামী সহ বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা মহোদয়গন। এলাকার গুনীজন তাঁহাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ভৌত অবকাঠামো নিম্ন মাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। তাঁহাদের মধ্যে জনাব মোঃ মজিবুল্ল্যাহ খান বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শ্রেনী কক্ষ নির্মাণ , ক্লাশ পরিচালনার স্থান ও শিক্ষক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। পরবর্তিতে জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান মজুমদার বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করনের জন্য সফল প্রচেষ্টা করেন। তিনি সরকারী ভাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্তর এম.পি.ও ভুক্ত করা, শিক্ষায় ব্যবস্থাপনায় বিদ্যালয়টি সরকারী ভাবে মঞ্জুরীর জন্য যথেষ্ট অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রমের জন্য তিনি তার পারিবারিক কাজের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক কাজী আনোয়ার হোসেন অত্র বিদ্যালয়ে ২০১০ খ্রীঃ যোগদান কালীন ম্যানিজিং কমিটির স্বনামধন্য সভাপতি বাবু নির্মল গোস্বামী ও সদস্যগন ৪ তলা একাডেমিক ভবন ,বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে দ্বিতল ভবন সম্প্রসারন, লাইব্রেরী কক্ষ নির্মান,ব্যবসায় শিক্ষা শাখা আরম্ভ করা, কৃষি শিক্ষা অনুমোদন,কম্পিউটার শিক্ষা অনুমোদন , শিক্ষামন্ত্রনালয় থেকে ৬ষ্ঠ – ৮ম শ্রেনির ১টি করে নতুন শ্রেনি শাখা অনুমোদন করা ,শহিদ মিনার নির্মান, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন ও লেখাপড়ার মান উন্নয়নে নীরলস ভাবে কাজ করে গেছেন। বর্তমানে ২০২২ থেকে সুদক্ষ, জ্ঞানপিপাসু , সমাজ সেবক ,সততা ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (ইঞ্জিনিয়ার) বিদ্যালয়ের একডেমিক মাঠ সম্প্রসারন ,গেইট নিমান পুকুর ভরাট, ছাত্র ছাত্রীদের লেখা পড়ার গুনগত মান বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের শোভাবর্ধান সহ ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে নীরলস ভাবে কাজ করছেন।পরিশ্রমের ধারাবাহিকতায় সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলামের আহবানে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন মূলক কাজে সহায়তা করতে নবাগত ১৪(চৌদ্দ) জন আজীবন দাতা সদস্য ২০০০০০/-(দুইলক্ষ) টাকা এবং ২(দুই) জন এক কালীন দাতা ২০০০০/- (বিশ হাজার টাকা) বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন মূলক কাজে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। যাহা বর্তমান সভাপতি সহ পূর্বের সভাপতি মহোদয় গন কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয় তথা চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিন উপজেলার ইতিহাসে স্বরনীয় ও বরনীয় হয়ে থাকবেন। এ বিদ্যালয়াটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সার্বিক সহায়তায় অদ্যবদি আরো নাম অজানা অনেক গুনীজন চিরদিন স্বরনীয় ও বরনীয় হয়ে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক তথ্য